শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১২:১২ অপরাহ্ন

সর্বশেষ
মাটিরাঙ্গায় পাহাড় কাটার দায়ে ৫০হাজার টাকা জরিমানা ধামইরহাট পৌরসভার নির্বাচনে আবারও নৌকার মাঝি মেয়র আমিনুর রহমান পেলেন দলীয় মনোনয়ন বন বিভাগের অভিযানে ৪০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ২ একর জমি উদ্ধার নওগাঁর ধামইরহাটে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদ্বোধন জামাই-শ্বশুরের ওপর হামলার ঘটনায় দোষীদের গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন নড়াইলের জেলার দত্তপাড়া এলাকায় রেললাইনে আল্ডারপাস নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন কালিয়ায় শ্রমিক লীগের প্রয়াত সভাপতির মৃত্যুতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাড়ীতে মাদকদ্রব্য রাখার দায়ে স্বামীসহ অভিনেত্রী গ্রেপ্তার বিয়ে করার মতো কাউকে পাইনি; তাই আমি বিয়ে করিনি ফুলবাড়ীতে তারেক রহমানের ৫৬তম জন্মদিন পালন
অবশেষে একসাথে-পর্ব: ০৫

অবশেষে একসাথে-পর্ব: ০৫

অবশেষে একসাথে-পর্ব: ০৭
অবশেষে একসাথে-পর্ব: ০৭

অবশেষে একসাথে
কাজী ফরহাদ

রাতুল কবিতা লিখছে। একটু একটু করে লিখছে, তবে মন বসছে না কবিতা লিখায়। কবিতা লেখা বাদ দেয়। গল্প লেখে, কিন্তু গল্প লেখায়ও মন বসছে না। ডায়েরিটা বন্ধ করে দেয়। কলমটা হাত থেকে ডায়েরির উপর রেখে দেয়। ব্যাগ থেকে ল্যাপটপ বের করে। পাওয়ার বাটনে চাপ দেয়। ল্যাপটপ অন হয়। ফেসবুক লগ ইন করে। মেসেজ অপশনে যায়। আদিবা জাহানারা নামে একটা আইডি থেকে নক করা হয়েছে। রাতুল চমকে যায় মেসেজ দেখে।
” ভাইয়া একটা কবিতা শুনতে ইচ্ছে করছে! প্লিজ আপনার লেখা একটা কবিতা বলুন।
রাতুল ভাবছে কে হতে পারে, পরিচিত কেউ নাকি অপরিচিত কেউ? ভাবতে ভাবতে ৫মিনিট চলে যায়। আবার মেসেজ আসছে,
” কী হয়েছে ভাইয়া সিন করে রিপ্লে দিচ্ছেন না যে?
এবার আর রাতুল ভাবেনি! রিপ্লে দেয়,
” কে আপনি?
ওপাশ থেকে রিপ্লে আসে,
” আপনার লেখা কবিতা আমাকে মুগ্ধ করে। কবিতাগুলো জোস।
” ওহ আচ্ছা ধন্যবাদ।
” ধন্যবাদ লাগবে না একটা কবিতা শুনতে চাই।
রাতুল ভয়েজ রেকর্ডে চাপ দিয়ে ধরে। তারপর কবিতা বলে,

আপনি যদি আকাশ হতেন,
আমি রোজ আপনার দিকে তাকিয়ে রইতাম।
আপনি যদি নদী হতেন,
আমি রোজ আপনার পাশে বসে রইতাম।
আপনি যদি বৃষ্টি হতেন,
আমি রোজ হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দেখতাম।

এইটুকু বলে ভয়েস রেকর্ড থেকে আঙুলের চাপ সরিয়ে দেয়।
কিছুক্ষন পর রিপ্লে আসে,
” এত অল্প কেন? শুনতে ভালোই লাগছিল। আরেকটু লম্বা করে শুনাতে পারতেন।
” আজ এটুকুই! অন্য কোনো এক গভীর রাতে আবার বাকিটুকু না হয় বলব। বাকিটুকু শুনাব।
” না আমি এখনি শুনব! প্লিজ বলুন।
” শুনাব অবশ্যই তবে শর্ত আছে?
” হ্যাঁ বলুন কী শর্ত?
” আপনার বন্ধু নেহাল আছে না!
” হ্যাঁ নেহালের কাজিন বুঝি?
” না গার্লফ্রেন্ড।
রাতুল হাসে। আদিবা হাসির কারণ জানতে চায়। হাসতে হাসতে রাতুল বলে,
” তেমন কিছু না।
” আপনি কী পাগল?
” পাগল ছিলাম একটা সময়! তবে এখন আর এসব পাগলামি করি না।
” গার্লফ্রেন্ড কেমন আছে?
আদিবার কথায় আবারো হাসে রাতুল। পূর্বের ন্যায় আবারো আদিবা জিজ্ঞেস করে,
” ভাইয়া হাসেন কেন?
” আমার কপালে গার্লফ্রেন্ড নেই বোন।
” মানলাম গার্লফ্রেন্ড নেই! তবে বউ তো আছে।
” আমার কী বিয়ের বয়স হয়েছে নাকি?
” হ্যাঁ হয়েছে তো! আয়নার সামনে নিজেকে ভালো করে দেখেন।
তাহলে ঠিক বুঝতে পারবেন বিয়ের বয়স হয়েছে কি-না।

নেহাল মেসেজ করে যাচ্ছে একটার পর আরেকটা। কিন্তু আদিবা রিপ্লে দিচ্ছে না। বড্ড রাগ হচ্ছে নেহালের। ইচ্ছে করছে মুঠোফোন আছাড় মেরে ভেঙে দিতে। আধাঘন্টা যাবত মেসেজ করে যাচ্ছে। কিন্তু এখনো রিপ্লে আসছে না। নিশ্চয়ই অন্য কারো কারো সঙ্গে চ্যাটিং করছে।
এখানে সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা মেসেজ আছে। গার্লফ্রেন্ড কিংবা বয়ফ্রেন্ড যদি মেসেজের রিপ্লে না দেয়! তার মানে এই নয় যে সে, অন্য কারো সঙ্গে প্রেম-আলাপের চ্যাটিং করছে। হতেও পারে কারো সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচানা করছে। যদি প্রিয় মানুষের মেসেজের রিপ্লে না আসে, তাহলে ভেঙে পড়বেন না। কোনো ধরনের রাগ কিংবা অভিমান করবেন না। বিষয়টি বুঝার চেষ্টা করবেন। যে সে কী প্রেম করছে নাকি অন্য কিছু। তাহলে দেখবেন, ঝগড়া হবে না।

নেহাল মন খারাপ করে, ফোনের সুইচ অফ করে ঘুমিয়ে পড়েছে। ঘুমের ঘরে স্বপ্নে দেখে, আদিবার বিয়ে হচ্ছে। আড়াল থেকে নেহাল দেখছে, চোখের জলে বুক ভাসাচ্ছে। ঘুম থেকে কেঁপে উঠেছে। সারা শরীর ঘেমে জবজবে হয়েছে। খুব ভয় হচ্ছে। মনে মনে ভবে আদিবার হয়তো কোনো বিপদ। মুঠোফোন হাতে নিয়ে সুইচ অন করে। আদিবার নাম্বারে ফোন দেয়। আদিবা ঘুম ঘুম চোখে ফোন রিসিভ করে। ঘুম ঘুম কন্ঠে বলল,
” এত রাতে ফোন করেছ কেন?
” আদিবা তুমি ঠিক আছ তো?
” মানে কী? এত রাতে ফোন করে কীসব উল্টাপাল্টা কথা বলছ। আর তোমার ফোন বন্ধ কেন?
” চার্জ শেষ হয়ে গিয়েছিল।
” আচ্ছা আমি ঘুমাব! ভীষণ ঘুম পাচ্ছে বাবু। গুড নাইট।
নেহাল ফোন কাট করেনি। আদিবা বুকের উপর মুঠোফোন রাখে ঘুমিয়ে যায়। আদিবার নিশ্বাস নেওয়া প্রতিটি শব্দ, নেহালের কাজে বাজে। নেহাল আদিবার নিশ্বাস নেওয়া শুনে। নিরব নিস্তব্ধ রাত। প্রেমিকার নিশ্বাসের শব্দ, শুনার মতো ভাগ্য কার আছে! কিন্তু নেহাল শুনতে পাচ্ছে। আদিবাকে চোখের সামনে দেখছে ( কল্পনায়) । আদিবা বলছে,
” ওগো! রাগ করো না। আমি সারাজীবন তোমার পাশে থাকব। সারাজীবন তোমাকে আমার মতো করে ভালোবাসব। নেহাল চোখ মেলে আশেপাশে তাকায়, কিন্তু কোথাও কেউ নেই। তবে কাকে খুঁজে! হয়তো আদিবাকে খুঁজে।

চলবে……

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2020 blog.bddorpon24.com

কারিগরি সহায়তায়ঃ-ক্রিয়েটিভ জোন আইটি