শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০১:৩১ অপরাহ্ন

সর্বশেষ
মাটিরাঙ্গায় পাহাড় কাটার দায়ে ৫০হাজার টাকা জরিমানা ধামইরহাট পৌরসভার নির্বাচনে আবারও নৌকার মাঝি মেয়র আমিনুর রহমান পেলেন দলীয় মনোনয়ন বন বিভাগের অভিযানে ৪০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ২ একর জমি উদ্ধার নওগাঁর ধামইরহাটে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদ্বোধন জামাই-শ্বশুরের ওপর হামলার ঘটনায় দোষীদের গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন নড়াইলের জেলার দত্তপাড়া এলাকায় রেললাইনে আল্ডারপাস নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন কালিয়ায় শ্রমিক লীগের প্রয়াত সভাপতির মৃত্যুতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাড়ীতে মাদকদ্রব্য রাখার দায়ে স্বামীসহ অভিনেত্রী গ্রেপ্তার বিয়ে করার মতো কাউকে পাইনি; তাই আমি বিয়ে করিনি ফুলবাড়ীতে তারেক রহমানের ৫৬তম জন্মদিন পালন
অবশেষে একসাথে-পর্ব: ০৬

অবশেষে একসাথে-পর্ব: ০৬

অবশেষে একসাথে-পর্ব: ০৭
অবশেষে একসাথে-পর্ব: ০৭


কাজী ফরহাদ


সকাল হয়েছে। মুয়াজ্জিন ফজরের আজান দিচ্ছে মসজিদের মাইকে। ঘরের মোরগ কক্কর-কক্কর ডাকছে। পাখিদের কিচিরমিচির ডাক। এমন একটা মিষ্টি সকাল দেখা সবার ভাগ্যে জুটে না। ভোরের আলো, মনোরম পরিবেশে মনকে মুগ্ধ করে তুলে। এত সুন্দর সকালে রাতুল মন খারাপ করে বসে আছে। নদীর পাড়ে একটা আম গাছের ঘোরায়। বসে বসে কী যেন ভাবছে। হয়তো পুরনো কথা মনে পড়েছে। রবিন জগিং করতে করতে একটা সময় সেই জাগায় যায়। দূর থেকে দেখে রাতুল বসে আছে। রাতুলের কাছে যায় রবিন। রবিন পাশের বিল্ডিংয়ে থাকে। রাতুলের সঙ্গে খুব ভালো বন্ধুত্ব তার। কাছে যায়, তারপর রাতুলকে জিজ্ঞেস করে,
” এই রাতুল! মন খারাপ নাকি?
রবিনের কথায়, রাতুল উত্তর দেয়নি। রবিন ভাবছে, কী একটা দুঃখ নিয়ে বেঁচে আছে ছেলেটা। কেউ জানুক বা জানুক, আমার তো জানার কথা ছিল। অথচ আমিও জানিনা। অনেকবার জানতে চেয়েছে রবিন! কিন্তু রাতুল এব্যাপারে কিছু বলেনি। বারবার এড়িয়ে গেছে। রবিন মনে মনে ভাবে, কী এমন দুঃখ আছে? যা নিয়ে রাতুল দিন-রাত মন খারাপ করে বসে থাকে। মন খারাপের কারন কী? কোনো মেয়ে কী তাহলে ছ্যাঁকা দিয়েছে? অনেকগুলো প্রশ্ন খুঁজছে রবিন।
শুনেছি ছ্যাঁকা খেলে মানুষ কবি হয়! রাতুলও ইদানীং খুব ভালই কবিতা পাবলিক করছে। ছেলেটা নিশ্চই ছ্যাঁকা খেয়েছে। কে ছ্যাঁকা দিয়েছে? কার এতবড় সাহস আমার বন্ধুকে কষ্ট দিয়েছে। আমাকে জানতে হবে। (রবিন ভাবছে)।

রাতুলের কাছে বসে রবিন। এখনও রাতুল ভাবনার জগতে বাস করছে। রবিন পাশে বসে। রাতুলের কাঁধে হাত রাখে। রাতুল ক্ষেপে উঠে। রাতুল ক্ষেপে উঠা দেখে, রবিন হা হা হা করে হেসে ফেলেছে। তারপর রাতুলকে বকে,
” কিরে ভয় পেলে নাকি?
” তুই কখন আসলি?
” এই তো ১০ মিনিট আগে। আচ্ছা সত্যি করে আমাকে বল, এতক্ষন কাকে নিয়ে ভাবছিলে?
” ধুর! কাকে নিয়ে ভাবতাম বল? কাউকে নিয়ে নয়।
” তুই মিথ্যা বলছিস!
” আসলে এই নদী নিয়ে ভাবছি! দেখ কতো সুন্দর নদীর পাশে প্রবাহিত হচ্ছে। আমি আজ এই নদী আর নদীর পানি নিয়ে কবিতা লিখব। সেজন্য এতক্ষন ভাবছিলাম।
আজও রবিনের কাছে মিথ্যা কথা বলেছে। যতবার জানতে চেয়েছে মন খারাপের কারন! ততবারই রাতুল কোনো না কোনো একটা অজুহাত দেখিয়ে কথাটা এড়িয়ে যাচ্ছে।
রবিন রাতলের কাঁধে হাত দেয়! তারপর বলে,
” দোস্ত তুই যতই মন খারাপের কারণ আমার কাছ থেকে গোপন রাখিস না কেন, আমি একদিন ঠিক খুঁজে বের করব।
” তুইও না বাচ্চাদের মতো আচরণ করছিস ইদানীং।
রবিন আবার বলে,
” দোস্ত চল সন্ধ্যায় সিনেমা দেখি। দারুণ মজা হবে। রাই, নেহাল, উর্বি সবাই যাবে।
” তোরা যা! আমার এসব সিনেমা-টিনেমা দেখতে ভালো লাগে না।
” তুই এমন কেন?
” হ্যাঁ আমি এমন ছিলাম, আছি, থাকব! ব্যস। তোদের কোনো প্রবলেম?
রাতুলের কথায় রবিন বড্ড রাগ করে। রাতুলের পাশ থেকে উঠে চলে যায়। তখন রাতুল বুঝতে পারে, রবিন রাগ করেছে। ডাক দেয়,
” এই রবিন! আচ্ছা ঠিক আছে আমি যাব তোদের সঙ্গে।
রাতুলের মুখে যাব শব্দ শুনে, রবিন অবাক হয়। আনন্দে বিমোহিত হয়। নাচানাচি শুরু করে। এমন পরিস্থিতি দেখে রাতুল হাসে। মনে মনে ভাবে, বন্ধুত্ব সত্যিই চিরদিন থাকে। যতই রাগ হোক, অভিমান করুক না কেন! দিনশেষে আবার বন্ধুর কাছে ফিরে আসে৷ রাই,নেহাল,উর্বি,রাতুল! চার বন্ধু। স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি, সব মিলিয়ে একসঙ্গে ছিল তারা। রাই মাঝে মাঝে মজা করে, রাতুলকে প্রপোজ করত। রাতুল কনফিউজড হতো! রাই সিরিয়াসলি প্রপোজ করেছে, নাকি মজা করে করেছে বুঝা বড় টাপ ছিল। পরে যখন জানতে পারত, রাই মজা করেছে। তখন রাতুল ইচ্ছেমতো রাইকে গালাগাল দিত। রাই মাইন্ড করত না। বরং মজা নিত। হাসতো ভীষণ। সেজন্য রাতুল রাইকে পাগলী বলে ডাকত। তাদের বন্ধুত্বে এমন ভালোবাসা ছিল, একদিন একজন আরেকজনকে না দেখলে শান্তিতে ঘুমাতে পারতো না। না দেখলে প্রায় পাগল হয়ে যেত। রাতুলের বাসার ছাদে রোজ শুক্রবার চারজন মিলে পার্টি করতো। সেখানে, ডিজে পার্টি হতো। কী মধুর বন্ধুত্ব তাদের মধ্যে। ডিজে পার্টি, কাচ্চি বিরিয়ানি আরো নানান আইটেম হতো। আহ্ কী আনন্দ। সব মিলিয়ে চারজনের বন্ধুত্ব অটুট ছিল। এবং এখনও আছে।

টিকিট সংগ্রহ করে চারজন মিলে সিনেমা হলে ঢুকে। তারা এক জাগায় বসে। রবিন ভাজা বাদাম নিয়েছে সঙ্গে করে। সবাই মিলে বাদাম খাচ্ছে। পাশাপাশি বসে সিনেমা দেখছে। কিন্তু রাতুল মন খারাপ করে বসে আছে। নেহাল তখন একটা কথা বলল,
” হাই গাইজ! আগামী শুক্রবাবের পরের শুক্রবারে, আমার বিয়ে।
নেহালের কথা শুনে সবাই হা হা হা করে হেসে ফেলল। রাই জিজ্ঞেস করল,
” সত্যি নাকি দোস্ত? কার সঙ্গে বিয়ে? ভাবী দেখতে কেমন? একসঙ্গে একগাদা প্রশ্ন করে বসল।
রাইর কথায় নেহাল জবাব দেয়,
তোরা কেউ তো জানিস না, আমি যে রিলেশন করি। কিছুদিন আগে কন্টিনিউ করেছি। প্রায় মাস খানেক হবে।
সবাই একসঙ্গে বলে উঠলো,
” রিলেশনের পার্টি কই?
তখন রাতুল হাত তুলে বলল,
” আমি জানি! মেয়ের নাম আদিবা জাহানারা।
রাতুলের কথায় নেহাল অবাক হয়। জিজ্ঞেস করে,
” দোস্ত কীভাবে জানলি তুই?
” এতকিছু বলব কেন? তুই যে রিলেশন করছ আমাদের কী বলছিস? আর তোরা যে রোজ ঝগড়া করিস! সেসব কথাও আমার কানে আসে।

চলবে……

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2020 blog.bddorpon24.com

কারিগরি সহায়তায়ঃ-ক্রিয়েটিভ জোন আইটি